দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ই-রিকশা নিয়ন্ত্রণে ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ জারি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। অবিলম্বে কার্যকর হওয়া এই বিধিমালা অনুযায়ী, জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও প্রধান বাস চলাচলের সড়কে ই-রিকশা চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া ফুটপাতে চলাচল এবং এক জোনের নিবন্ধিত রিকশা অন্য জোনে বা অন্য সিটি করপোরেশনে নেওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে এসব রিকশার জোনভিত্তিক রুট, সংখ্যা ও রং নির্ধারণ করবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ সড়কে ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতি হবে ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার এবং স্কুল, হাসপাতাল বা জনবহুল এলাকায় তা হবে সর্বোচ্চ ১৫ কিলোমিটার। অনুমোদিত ধারণক্ষমতা অনুযায়ী চালক ছাড়া সর্বোচ্চ দুই বা চারজন যাত্রী বহন করা যাবে এবং অতিরিক্ত বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন ও ৪০ ডেসিবেলের বেশি তীব্রতার হর্ন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। চালককে অবশ্যই ১৮ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে। আবেদনের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে কিউআর কোডযুক্ত পাঁচ বছর মেয়াদি নিবন্ধন দেওয়া হবে এবং একজন ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশা নিবন্ধন করা যাবে।
বুয়েটের প্রযুক্তিগত মান অনুযায়ী তৈরি প্রতিটি ই-রিকশায় স্পিডোমিটার ও ওডোমিটার থাকতে হবে এবং এগুলোর অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল হবে ১২ বছর। অনুমোদিত চার্জিং স্টেশন বা গ্যারেজে সৌরবিদ্যুৎ ও গ্রিড সংযোগের মাধ্যমে ব্যাটারি চার্জ করতে হবে এবং পরিবেশের ক্ষতি এড়াতে পুরোনো ব্যাটারি যত্রতত্র না ফেলে অনুমোদিত পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে হবে। নিবন্ধনহীন রিকশা চালানো, অতিরিক্ত গতি, অতিরিক্ত যাত্রী বহন বা ট্রাফিক আইন অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র: প্রথম আলো