মাথার বেশির ভাগ চুল পেকে সাদা, হালকা মোচ-দাড়িরও একই দশা। কপালে বলিরেখা, চোখ দুটি সামান্য কোটরে ঢোকা। মুখে হাসি লেগে থাকে; কিন্তু চোখে অনিশ্চয়তার ছায়া। নাম সুকুমার রবিদাস, বয়স ৫০ পেরিয়েছে। থাকেন ফরিদপুর শহরের রবিদাস পল্লিতে। প্রায় ৪০ বছর ধরে জুতা-স্যান্ডেল বানান; পুরোনো ছেঁড়া জুতা সেলাই ও মেরামত করেন, রং করেন, পলিশ করেন। বসেন শহরের কুমার নদের পাড়ে ময়রাপট্টিতে, একটি স্যানিটারি পণে৵র দোকানের সামনে রাস্তার ধারে।
একই কাজ করতেন তাঁর বাবা ও দাদা। সুকুমার কাজ শিখেছেন বাবার কাছে, বাবা শিখেছিলেন তাঁর বাবার কাছে। এভাবেই চলছে বংশপরম্পরায়। রাস্তার ধারে সেই জায়গাতেই একদিন সুকুমারের সঙ্গে আলাপ হলো। সকাল ১০টার দিকে কাজে বসেন, বাড়ি ফেরেন রাতে। মাঝখানে একবার বাড়ি গিয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে আসেন। বলেন, ‘আয়রোজগার ভালো না। কোনো দিন ৫০০ হয়, কোনো দিন ৩০০। কোনো কোনো দিন আরও কম। সংসার চলে কি চলে না...।’ চার সদস্যের সংসার সুকুমারের।
স্ত্রী শোভারানী রবিদাস গৃহিণী।
সূত্র: প্রথম আলো